নাটকীয় পেনাল্টি শুটআউটে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মিশর। টেক্সাসের ডালাসে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র থাকার পর ম্যাচটি গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও গোল না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ভাগ্য নির্ধারিত হয়।
ডালাসের কাউবয়েজ স্টেডিয়ামে ম্যাচের ১৩ মিনিটেই এগিয়ে যায় সাতবারের আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মিশর। করিম হাফেজের নিখুঁত ক্রসে গোল করে দলকে লিড এনে দেন ইমাম আশুর। এবারের আসরে এটি আশুরের দ্বিতীয় গোল। এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর কিছুটা ছন্দ হারিয়ে ফেলে অস্ট্রেলিয়া, যারা গ্রুপ পর্বে মাত্র দুটি গোল করতে পেরেছিল। অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইনজুরিতে পড়ায় এই ম্যাচে মিশরের তারকা ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহকে কিছুটা নিষ্প্রভ দেখায়।
বিরতির ১০ মিনিট আগে সকারুজরা (অস্ট্রেলিয়া) ম্যাচে তাদের প্রথম অন-টার্গেট শটটি নেয়। তবে ফুল-ব্যাক আজিজ বেহিচের সেই শট কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন মিশরীয় গোলরক্ষক মোস্তফা শুবির। ৪৫ মিনিটে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি থেকে ফেরা সালাহ ব্যবধান বাড়ানোর একটি সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল মিশর। তবে ম্যানচেস্টার সিটি উইঙ্গার ওমর মারমুশের (মামুশ) শটটি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এর ঠিক ১০ মিনিট পর ভাগ্য সহায় হয় অস্ট্রেলিয়ার। সকারুজদের একটি ফ্রি-কিক ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন মিশরের মোহাম্মদ হানি। আত্মঘাতী এই গোলে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। চলতি টুর্নামেন্টে এটি হানির দ্বিতীয় আত্মঘাতী গোল।
অতিরিক্ত সময়ের শেষ ৩০ মিনিটে মিশর একের পর এক আক্রমণ করে অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় গোল পায়নি। ফলে ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে।
টাইব্রেকারের ঠিক আগ মুহূর্তে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যাথু রায়ানকে বদলি হিসেবে মাঠে পাঠান অস্ট্রেলিয়ান কোচ টনি পোপোভিচ। তবে কোচের সেই চাল কাজে আসেনি। সকারুজদের হয়ে প্রথম শট নিতে এসে বারের ওপর দিয়ে বল মারেন ডিফেন্ডার হ্যারি সুটার (শুটার)। প্রথম মিসেই ব্যাকফুটে চলে যায় অস্ট্রেলিয়া।
এরপর দুই দলের খেলোয়াড়রাই টানা গোল করতে থাকেন, যার মধ্যে সফল স্পট-কিক নেন মোহাম্মদ সালাহও। তবে চতুর্থ শটে অস্ট্রেলিয়ার ১৮ বছর বয়সী তরুণ লুকাস হেরিংটনের শটটি পোস্টে লাগলে পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যায় সকারুজদের। শেষ শটে মিশরের হোসাম আবদেলমাগুইড ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে দলকে ঐতিহাসিক জয় উপহার দেন।
ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় পেল মিশর, আর সেই সাথে নিশ্চিত করল টুর্নামেন্টের শেষ ষোলোর টিকিট।