Corporate Sangbad
আইন-আদালত

হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২৬, ২:৪৩ অপরাহ্ন ·

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যা মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন।

প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলার একমাত্র আসামি ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ এনেছিল ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এর মধ্যে রায়ে হাসানুল হক ইনুকে তিনটি অভিযোগে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫টি অভিযোগে খালাস দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সেইসঙ্গে আলাাদা আলাদা অভিযোগে ১ লাখ করে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এর আগে রায় ঘোষণা উপলক্ষে পৌনে ২টার দিকে হাজতখানা থেকে ইনুকে এজলাসে তোলা হয়। ২টার কয়েক মিনিট আগে রায় পড়া শুরু করেন আদালত। এজলাসে তোলার সময় ইনু পুলিশকে তার হাত ধরতে নিষেধ করেন। তিনি সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি ও কফি কালারের জুতা পরিহিত অবস্থায় আসামির কাঠগড়ায় চেয়ারে পায়ের ওপর পা তুলে বসে রায় পড়া শোনেন।

জুলাই আন্দোলনে ছাত্রজনতাকে হত্যায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের মার্চে তদন্ত শুরু হয়। ২৫ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়। পরে ৩০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করা হয়।

এ মামলায় শহীদ পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী ও তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ১০ জন সাক্ষ্য দেন। গত ১৩ মে শেষ হয় এ মামলার বিচার কার্যক্রম।

হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আনা ৮ অভিযোগ হলো-
প্রথম অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক অ্যাখ্যা দেন ইনু। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগের উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা দেন এবং হত্যারও নির্দেশ দেন তিনি।

দ্বিতীয় অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪–দলীয় জোটের সভা হয়। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’–এর সিদ্ধান্ত হয়। হাসানুল হক সেই সভায় উপস্থিত থেকে ‘শুট অ্যাট সাইটের’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা করেন।

তৃতীয় অভিযোগ, ছবি দেখে আন্দোলনকারী ছাত্র–জনতার তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আটক ও নির্যাতন করার জন্য কুষ্টিয়ার এসপিকে ফোনে নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ।

চতুর্থ অভিযোগ, আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্রের ব্যবহার করা এবং ছত্রীসেনা নামিয়ে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বম্বিংয়ের পরিকল্পনা করার অভিযোগ।

পঞ্চম অভিযোগ, গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া। সরকারের গ্রহণ করা হত্যাকাণ্ড সংঘটনসহ নির্যাতন–নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থন করা।

ষষ্ঠ অভিযোগ, ১৪–দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।

সপ্তম অভিযোগ, শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকা।

অষ্টম অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন নামের ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যায় নির্দেশনা প্রদান। পাশাপাশি সারা দেশে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র–জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট হাসানুল হক ইনু গ্রেপ্তার হন। পরে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন ইনু। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে কুষ্টিয়ায় নিজের আসনে তিনি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।