Corporate Sangbad
অর্থ-বাণিজ্য

১ জুলাই থেকে সব সরকারি প্রাপ্তি জমায় ‘এ-চালান’ বাধ্যতামূলক

প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ন ·

সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য সব ধরনের সরকারি প্রাপ্তি জমার ক্ষেত্রে বুধবার (১ জুলাই) থেকে ‘এ-চালান’ (Automated Chalan) ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এখন থেকে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আর কোনো চালান নেওয়া হবে না।

মঙ্গলাবর (৩০ মে) অর্থ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা অধীনস্থ দপ্তর এ-চালানের বাইরে অন্য কোনো মাধ্যমে সরকারি অর্থ সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবে না। বর্তমানে সরকারি অর্থ সংগ্রহে প্রচলিত অন্য কোনো পৃথক ব্যবস্থা থাকলে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে সংরক্ষিত সরকারি অর্থ আজ ৩০ জুনের মধ্যে এ-চালানের মাধ্যমে সরকারের ‘ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে’ (টিএসএ) স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগ জানায়, সরকারি অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে জমা নিশ্চিত করা, নগদ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা, আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ম্যানুয়াল ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরকারের প্রকৃত নগদ অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ও নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাবে, ব্যাংকে অলস অর্থ পড়ে থাকার প্রবণতা কমবে এবং ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ হবে।

নাগরিক সুবিধা: এ-চালান চালুর ফলে সরকারি ফি ও রাজস্ব জমা দিতে নির্দিষ্ট ব্যাংক শাখায় যাওয়ার বাধ্যবাধকতা কমেছে। অর্থ জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চালানের রসিদ তৈরি হয় এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করা যায়। ফলে নাগরিক সেবা প্রাপ্তি আরও সহজ ও দ্রুত হয়েছে।

অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ-চালান ব্যবস্থার ব্যবহার ও রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে:

২০২৫-২৬ অর্থবছর: সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে ৪ লাখ ৭ হাজার ২২৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫০% বেশি।

চালান প্রক্রিয়াকরণ: সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে ৬ কোটি ৭৫ লাখ চালান প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে (৭১.৭% প্রবৃদ্ধি)। এর মধ্যে অনলাইন চালানের সংখ্যা ৯২% বেড়ে ৫ কোটি ৩৬ লাখে পৌঁছেছে।

অনলাইন ও ওটিসি: অনলাইনে আদায় হয়েছে ১১ হাজার ২৯৮ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) বা ব্যাংক কাউন্টারের মাধ্যমে জমা হয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৩৯৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

সাত বছরের যাত্রা: ২০১৯-২০ অর্থবছরে মাত্র ১৭টি চালান দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই প্ল্যাটফর্মে গত ৭ অর্থবছরে ১৯ কোটি ৩ লাখের বেশি চালানের মাধ্যমে ১০ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি জমা হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা কাউন্টার, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল আর্থিক সেবা (বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ট্যাপ) এবং ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঘরে বসেই সরকারি রাজস্ব ও ফি জমা দেওয়া যাচ্ছে।

অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, এ-চালান ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো তাৎক্ষণিকভাবে রাজস্ব আদায়ের তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারছে। এছাড়া অনলাইন যাচাই ব্যবস্থার (Verification System) কারণে ভুয়া চালান, জাল দলিল এবং রাজস্ব ফাঁকির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

বৃহত্তর সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংস্কারের অংশ হিসেবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে অর্থ বিভাগ এই এ-চালান ব্যবস্থা চালু করেছিল, যা আগামীকাল থেকে শতভাগ বাধ্যতামূলক হচ্ছে।