Corporate Sangbad
শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি

প্রাথমিকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক: মাঠ নিশ্চিতসহ ডিপিই’র একগুচ্ছ নির্দেশনা

প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ন ·

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চতুর্থ শ্রেণি থেকে জাতীয় পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে খেলার মাঠের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করাসহ একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।

রোববার (২৮ জুন) অধিদপ্তরের সেকশন-২ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আদেশে জানানো হয়, গত ১৬ মার্চ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এখন থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ রয়েছে, সেগুলো খেলাধুলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় চাহিদা নিরূপণ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ভবিষ্যতে নতুন কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব পাঠানোর আগে সেখানে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা বাধ্যতামূলকভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের প্রায় ১১ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো খেলার মাঠ নেই। আদেশটিতে এসব বিদ্যালয় সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিস্তারিত তথ্যসহ অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব বিদ্যালয়ের নিজস্ব মাঠ নেই, তাদের জন্য বিকল্প কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:

চুক্তি বা সমঝোতা: আশপাশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিমালিকানাধীন মাঠ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যবহারের লক্ষ্যে সমঝোতা বা চুক্তি করা।

যৌথ ব্যবহার: স্থানীয় মন্দির, মসজিদ, খালি জায়গা, পতিত জমি কিংবা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার মাঠ থাকলে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় যৌথভাবে খেলাধূলার আয়োজন করা।

ইনডোর গেমসের ব্যবস্থা: যেসব বিদ্যালয়ে কোনোভাবেই মাঠের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়, সেখানে সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে দাবা, ক্যারামসহ বিভিন্ন ইনডোর গেমসের সরঞ্জাম সরবরাহ করা।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে হবে। এছাড়া, প্রতিদিন পাঠদান শেষে এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে শিশুদের খেলাধুলার জন্য বিদ্যালয়ের মাঠ উন্মুক্ত রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ অগ্রগতি প্রতিবেদন অধিদপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাতীয় পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার এই যুগান্তকারী উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক বিকাশ, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং দলগত কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ক্রীড়া সংস্কৃতির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।