Corporate Sangbad
খেলাধুলা

'বিশ্বকাপে কানাডার রূপকথা: শেষ মুহূর্তের গোলে প্রথমবার শেষ ষোলোতে'

প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২৬, ১০:৫১ পূর্বাহ্ন · স্পোর্টস ডেস্ক

ইনজুরি টাইমের নাটুকে গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ১৬ (নকআউট পর্ব) নিশ্চিত করেছে সহ-আয়োজক কানাডা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম শেষ ষোলোতে নাম লেখাল উত্তর আমেরিকার দেশটি।

দুই দলই এবার প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচটির টাইট লড়াই দেখে মনে হচ্ছিল খেলা হয়তো অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে। কিন্তু ম্যাচের ঠিক শেষ মুহূর্তে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে স্তব্ধ করে দেন কানাডিয়ান তারকা স্টিফেন ইউস্তাকিও।

নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থান দখল করতে না পারায় সহ-আয়োজক হওয়া সত্ত্বেও কানাডাকে ম্যাচটি খেলতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে। আগামী ৪ জুলাই হিউস্টনে শেষ ১৬-এর ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস বনাম মরক্কো ম্যাচের জয়ী দল।

ম্যাচ শেষে কানাডার কোচ জেসি মার্শ বলেন, ‘আমাদের নিজেদের ওপর আত্মবিশ্বাস ছিল। শেষ পর্যন্ত ৯২ মিনিটে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটি আসে। এখন আমরা পরের রাউন্ডে।’

তবে দলের সুযোগ নষ্ট করার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন মার্শ, ‘গোলের সময় বিবেচনা করলে ম্যাচটা দারুণ নাটকীয় ছিল। তবে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচটা আরও সহজ হতো। সমর্থকরা আজ যেভাবে আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে, তা সত্যিই অসাধারণ।’

ম্যাচের আগে মার্শ জানিয়েছিলেন, দলের ‘এক্স ফ্যাক্টর’ আলফোনসো ডেভিস হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে একাদশে ফিরবেন। তবে বায়ার্ন মিউনিখের এই উইং-ব্যাককে ছাড়াই মাঠে নামে কানাডা। তা সত্ত্বেও শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় তারা। ২২ মিনিটে ইউস্তাকিওর নিখুঁত ফ্রি-কিক থেকে কানাডিয়ান সেন্টার ব্যাক ডেরেক করনেয়িস হেড করলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

কাউন্টার অ্যাটাকে দক্ষিণ আফ্রিকা বিপজ্জনক হলেও প্রথমার্ধের ঠিক আগে গোলের সুবর্ণ সুযোগ মিস করে কানাডা। কর্নার থেকে মোয়েস বোমবিতোর হেড গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন দক্ষিণ আফ্রিকান ডিফেন্ডার। ফিরতি বলে টায়োন বুকাননের শট রুখে দেন গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস। পরের মিনিটেই রিচি লারিয়াকে বক্সের মধ্যে ফাউল করা হলে পেনাল্টির আবেদন করে কানাডা, তবে রেফারির সাড়া মেলেনি।

বিরতির পর আবারও গোলের কাছাকাছি পৌঁছায় কানাডা। বদলি খেলোয়াড় নিকো সিগরের থ্রু বল থেকে টানি ওলুওয়াসির শট উইলিয়ামস আটকে দেওয়ার পর ফিরতি বলে জোনাথন ডেভিডের শট দারুণভাবে ক্লিয়ার করেন ডিফেন্ডার এমবেকেজেই এমবোকাজাই।

ম্যাচের ৭৫ মিনিটে অবশেষে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে মাঠে নামেন আলফোনসো ডেভিস। মাঠে নেমেই বাঁ প্রান্ত থেকে আক্রমণের ঝড় তোলেন তিনি। তার পাস থেকে জোনাথন ডেভিড বল বাড়িয়েছিলেন প্রমিস ডেভিডের দিকে, কিন্তু সেই শট পোস্টের পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়। পরের মিনিটে ডেভিসের আরেকটি পাস থেকে জোনাথন ডেভিডের নেওয়া শট রুখে দেন উইলিয়ামস।

অবশেষে যোগ করা সময়ের (ইনজুরি টাইম) দ্বিতীয় মিনিটে ডেডলক ভাঙে কানাডা। ডান প্রান্ত থেকে জ্যাকব শাফেলবার্গের দুর্দান্ত ক্রসে পোর্তো মিডফিল্ডার ইউস্তাকিও বল জালে জড়ালে পুরো স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ে। ঐতিহাসিক এই গোল উদযাপনে মাঠের ভেতর ছুটে আসেন কানাডার পুরো বদলি বেঞ্চের খেলোয়াড়রা।

নিজেদের দেশে খেলতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করে মার্শ বলেন, ‘ভ্যাঙ্কুভারে নিজেদের সমর্থকদের সামনে এই উদযাপন করতে না পারাটা লজ্জার। কিন্তু সবাই আজ আমাদের খেলোয়াড়দের প্রতিভা ও মানসিকতা দেখেছে।’

অন্যদিক বিদায় নিলেও নিজেদের পারফরম্যান্সে গর্বিত দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুস। তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো গ্রুপ পর্ব পার করাও আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন। আমরা আমাদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট। তবে ম্যাচটা যেভাবে শেষ মুহূর্তে হেরেছি, তাতে দলের সবাই হতাশ। আমরা আজ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছিলাম।’