মাঠের বাইরে সমালোচকদের সব গুঞ্জন যেন এক ম্যাচেই উড়িয়ে দিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে দেখা পেলেন দুর্দান্ত জোড়া গোলের। আর এই জোড়া গোলের সুবাদে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ছয় আসরে গোল করার অনন্য এক বিশ্বরেকর্ড গড়লেন ‘সিআর সেভেন’।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে রোনালদোর রেকর্ড গড়ার দিনে পর্তুগাল ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে উজবেকিস্তানকে। এই দাপুটে জয়ে নকআউট পর্বের অনেকটাই কাছে পৌঁছে গেল রবার্তো মার্টিনেজের শিষ্যরা।
হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৬ মিনিটেই পর্তুগালকে এগিয়ে নেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। ২০০৬ বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০২৬—টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই সাবেক ফরোয়ার্ড। গোল করার পর স্বভাবসুলভ ‘সিউউউ’ (Siuuu) উদযাপনে মাতেন তিনি, যা গ্যালারিতে থাকা পর্তুগিজ সমর্থকদের আনন্দে ভাসিয়ে দেয়।
১৭ মিনিটে দারুণ এক ফ্রি-কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নুনো মেন্দেস। তবে প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়ার ৬ মিনিট আগে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন রোনালদো। এই গোলের মাধ্যমে পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে কিংবদন্তি ইউসেবিওকে (৯ গোল) ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০ গোলের রেকর্ড নিজের করে নিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ১৪৩ গোলের রেকর্ড সঙ্গী করেই এদিন মাঠে নেমেছিলেন এই মহাতারকা।
রেকর্ডের পাতায় রোনালদো:
ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৬টি বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড।
ইউসেবিওকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ ১০ গোল।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ১৪৩ গোলের রেকর্ডকে আরও সমৃদ্ধ করলেন।
এর আগে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল পর্তুগাল। সেই ম্যাচে চেনা ছন্দে ছিলেন না রোনালদো। ফলে ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে মূল একাদশ থেকে বাদ দেওয়ার জন্য কোচ রবার্টো মার্টিনেজের ওপর চাপ বাড়ছিল। বিশেষ করে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা হ্যারি কেনরা যখন বিশ্বকাপে দারুণ সূচনা করেছেন, তখন রোনালদোর ফর্মহীনতা ভক্তদের হতাশ করেছিল। তবে কোচের আস্থার প্রতিদান দিতে বেশি সময় নেননি সিআর সেভেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই উজবেকিস্তানের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডরা। ম্যাচের ৩ মিনিটে মেন্দেসের ক্রস থেকে গোল মিস করলেও ৬ মিনিটে জোয়াও কানসেলোর নিখুঁত পাস থেকে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি রোনালদো। উজবেক গোলরক্ষক আবদুভোহিদ নেমাতোভের কেবল চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। ইতালিয়ান কিংবদন্তি ফাবিও কানাভারোর কোচিংয়ে থাকা উজবেকিস্তান ম্যাচের মাঝে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। আজিজজন গ্যানিয়েভের একটি শট পর্তুগালের জালে জড়ালেও কানসেলোকে ফাউল করার কারণে ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির সাহায্যে গোলটি বাতিল করেন রেফারি।
দ্বিতীয়ার্ধেও আধিপত্য ধরে রাখে পর্তুগাল। রোনালদোর একটি আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে আত্মঘাতী গোল করে বসেন উজবেক গোলরক্ষক নেমাতোভ। এরপর ম্যাচের ৮৭ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় রাফায়েল লিয়াও জোরালো শটে পঞ্চম গোলটি করলে ৫-০ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয় পর্তুগালের।
গ্রুপ পর্বে পর্তুগালের শেষ ম্যাচ আগামী শনিবার কলম্বিয়ার বিপক্ষে। কলম্বিয়া তাদের প্রথম ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল। ফলে গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াইয়ে এই ম্যাচটি পর্তুগালের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে।