Corporate Sangbad
অর্থ-বাণিজ্য

ভ্যাটের আওতা বাড়াতে বিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব

প্রকাশিত: ১৩ জুন, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ন ·

মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থার আওতা সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব আহরণ বাড়াতে ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে ভ্যাট নিবন্ধন বা বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে এসব কথা জানান অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভ্যাটের আওতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে মূসক নিবন্ধন গ্রহণ বাধ্যতামূলক করতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এর ফলে আরও বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিক কর ব্যবস্থার আওতায় আসবে এবং রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি পাবে।

এছাড়া রাজস্ব বাড়াতে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইনে সংশোধনের প্রস্তাব দেন তিনি।  

অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং কর ব্যবস্থার কার্যকারিতা উন্নয়নের লক্ষ্যে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর বিভিন্ন তফসিলে সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশে উৎপাদিত অ্যালকোহলের ওপর উৎপাদন পর্যায়ে প্রতি লিটার ৫০০ টাকা নির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপ করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের উচ্চমূল্যের হিমায়িত মাছ আমদানির ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে বৃক্ষ, বৃক্ষের অংশ এবং সুগন্ধি বৃক্ষ নির্যাস আমদানির ওপরও ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এবারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। অংকের দিক থেকে যা দেশের ইতিহাসের রেকর্ড। 

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটিই প্রথম বাজেট। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাজেটের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি’র মহাসড়কে এগিয়ে নেওয়া।

প্রস্তাবিত বাজেটে প্রচলিত অবকাঠামো উন্নয়নের চেয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি দেশীয় শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।