Corporate Sangbad
আন্তর্জাতিক

হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন ·

হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ১০টা থেকে হামলা শুরু হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তাদের দাবি, এটি ছিল ‘ইরানের অযৌক্তিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আনুপাতিক প্রতিক্রিয়া’। খবর আল জাজিরার।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি জানায়, প্রথম দফার হামলায় হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপ, সিরিক ও জাস্ক বন্দরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে বুধবার (১০ জুন) মধ্যরাত ও ভোরের দিকে জাস্ক এবং বন্দর আব্বাসেও নতুন করে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর টহলরত একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ইরান গুলি করে ভূপাতিত করেছে।

ট্রাম্প বলেন, এই হামলার জবাব দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। তবে ট্রাম্প জানান, হেলিকপ্টারের দুই ক্রু সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তারা আহত হননি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরানের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত বিদেশি সামরিক বাহিনী সবসময় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

মার্কিন হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা বা হুমকি বিনা জবাবে ছাড় পাবে না। নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে যান।

এই হামলার ফলে দুই মাস ধরে কার্যকর থাকা নাজুক যুদ্ধবিরতি আরও সংকটের মুখে পড়েছে। এর মাত্র একদিন আগে ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা চালায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, মঙ্গলবারের ইসরায়েলি হামলায় দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটের অন্তত দুই সদস্য নিহত হয়েছেন।

আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি মোহাম্মদ ভাল জানান, নতুন মার্কিন হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

মোহাম্মদ ভাল বলেন, কূটনীতি অগ্রাধিকার পাবে নাকি নতুন সামরিক উত্তেজনা শুরু হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রস্তাব বর্তমানে ইরানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

ইরান বরাবরই বলে আসছে যে তারা আলোচনার পথ খোলা রেখেছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাদের আস্থা নেই। তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একের পর এক হামলা চালিয়ে শান্তির পরিবেশ নষ্ট করছে।

হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছিলেন।

সোমবার তিনি বলেন, দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই একটি চুক্তি হওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কী কারণে তিনি এতটা আশাবাদী, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনার চেষ্টা চললেও এখনও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করুক। অন্যদিকে তেহরান চায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও স্থগিত থাকা সম্পদ মুক্তির নিশ্চয়তা, এমনকি চূড়ান্ত চুক্তির আগেই।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সোমবার বলেন, সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য আলোচনায় সম্মত হওয়া বিষয়গুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তার ভাষায়, এতে স্পষ্ট হচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধবিরতি বা সংলাপ-কোনোটিই আন্তরিকভাবে চায় না।