Corporate Sangbad
অর্থ-বাণিজ্য

বিলাসী পণ্য ও আমদানিতে বড় ধাক্কা, বাড়ছে রড-সিগারেটের দাম

প্রকাশিত: ৯ জুন, ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন ·

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে আমদানি পণ্যে কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে সরকার। একই সাথে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্য, বিদেশি প্রসাধনী, বিলাসী সামগ্রী এবং উচ্চমূল্যের আমদানি করা খাদ্যপণ্যের ওপর শুল্ক-কর বড় অঙ্কের বাড়ানোর ঘোষণা আসছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশীয় শিল্পকে উৎসাহিত করতে এবং অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করতেই বাজেটে এই কৌশল নেওয়া হচ্ছে।

কাজু বাদাম ও মাছে শুল্ক বৃদ্ধি, বাড়ছে রড-ইস্পাতের খরচ
সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে কাজু বাদামের চাষ হওয়ায় দেশীয় চাষিদের সুরক্ষায় কাজু বাদাম আমদানিতে শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে। এছাড়া পাঙাস মাছের ফিলেট আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং উচ্চ মূল্যের হিমায়িত মাছ আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বসানোর প্রস্তাব আসছে।

এদিকে নির্মাণ খাতের অন্যতম প্রধান উপাদান মাইল্ড স্টিল (এমএস) রড ও এ জাতীয় পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কর (ভ্যাট) প্রায় ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। এতে মেল্টেবল ও রি-রোলেবল স্ক্র্যাপ থেকে উৎপাদিত বিলেট ও এমএস পণ্যের টনপ্রতি কর মানভেদে ১৫০ টাকা থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে রড-ইস্পাতের দাম বাড়তে পারে।

সিগারেট, জর্দা ও মদে বড় ধাক্কা
স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ও রাজস্ব বাড়াতে তামাক ও অ্যালকোহল জাতীয় পণ্যে করের বোঝা আরও বাড়ছে:

সিগারেট: সিগারেটের দাম প্যাকেট প্রতি প্রায় ৭ টাকা বাড়তে পারে। সিগারেটের ফিল্টার তৈরির পেপার আমদানিতে ৩০০ শতাংশ এবং নিকোটিন পাউচে ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।

তামাক ও জর্দা: গুল ও জর্দার কর বাড়ানোর পাশাপাশি অপ্রক্রিয়াজাত তামাকের উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহার করে প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা সুনির্দিষ্ট ভ্যাট বসানো হতে পারে।

মদ: দেশীয় মদের ওপর প্রতি লিটারে ৫০০ টাকা হারে ভ্যাট বসতে পারে। এছাড়া বিদেশি মদের ওপর মানভেদে বর্তমানে থাকা ৪৫০ থেকে ৬০০ শতাংশ শুল্ককরের কড়াকড়ি আরও জোরালো করা হচ্ছে।

ভ্যাটের আওতা বাড়ছে, খুচরা ব্যবসায়ীদের অগ্রিম কর
আসন্ন বাজেটে নতুন আরও ১০টি পণ্যের আমদানি পর্যায়ে ২০ শতাংশ ভ্যাট বসানোর পরিকল্পনা করছে এনবিআর। পাশাপাশি খুচরা ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে প্রতি হাজারে ২ টাকা হারে অগ্রিম কর দেওয়ার নিয়ম চালু হতে পারে। এছাড়া বিদেশি প্রসাধনী, আমদানিকৃত ইলেকট্রনিক্স পণ্য ও বিলাসী খাদ্যপণ্যের শুল্ক এক লাফে অনেকটাই বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।