Corporate Sangbad
আন্তর্জাতিক

ইরানে ইসরায়েলের হামলা, পাল্টা হামলা তেহরানের

প্রকাশিত: ৮ জুন, ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ন ·

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানোর পরও আজ ইরানের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে নতুন করে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ইসরায়েল আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের ভেতরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হেনেছে। খবর রয়টার্সের। 

এর কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইসরায়েল ও ইরানের নতুন হামলা ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের চলমান শান্তি আলোচনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সিদ্ধান্ত আমি নেই, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নয়।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এটি কোনোভাবেই চুক্তিকে প্রভাবিত করবে না। সব সিদ্ধান্ত আমি নেই। নেতানিয়াহু সিদ্ধান্ত নেন না।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রোববার ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে প্রায় আধাঘণ্টার ফোনালাপ হয়। সেই সময় ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে নতুন হামলা থেকে বিরত থাকতে বলেন।

এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেছেন, আমরা একটি ভালো চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। তাই এখন নতুন হামলা থেকে বিরত থাকুন।

তবে সেই আহ্বানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েল নতুন হামলা চালায়।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের নাজারেথের কাছে অবস্থিত রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে এবং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। সোমবার লেনদেন শুরুর দিকে বৈশ্বিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারের ওপরে উঠে যায়।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অন্যতম জটিল বিষয় হয়ে উঠেছে লেবানন পরিস্থিতি। ইসরায়েল গত সপ্তাহে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির উদ্যোগের পরও বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালিয়েছে।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো শান্তি চুক্তি কার্যকর করতে হলে লেবাননেও যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে হবে।

ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, লেবানন সংক্রান্ত চুক্তি লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি স্থাপনাগুলো বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।


ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া সংঘাত এপ্রিলের শুরুতে আংশিক যুদ্ধবিরতির পর অনেকটাই স্থবির অবস্থায় রয়েছে। তবে ইরান এখনও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা বজায় রেখেছে, আর যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ অব্যাহত রেখেছে।

ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে একটি সমঝোতা খুব কাছাকাছি। তবে ইরানের দাবি—নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত সম্পদ ফেরত এবং হরমুজ প্রণালিতে তাদের ভূমিকার স্বীকৃতি—এখনও বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

এদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের জব্দকৃত সম্পদ অন্য কোনো দেশে স্থানান্তরের চেষ্টা করা হলে তেহরান তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে।