সিটি ব্যাংকের ৪৩তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) রবিবার (৭ জুন) ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শেয়ারহোল্ডারদের জন্য পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক সুপারিশকৃত ১৫% ক্যাশ (নগদ) এবং ১৫% স্টক (বোনাস) ডিভিডেন্ড সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান হোসেন খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও অংশগ্রহণ করেন— ভাইস চেয়ারম্যান রুবেল আজিজ; পরিচালকবৃন্দ আজিজ আল কায়সার, সৈয়দা শায়রীন আজিজ, রেবেকা ব্রোসন্যান, সৈয়দ রায়হান হাসান আলী; স্বতন্ত্র পরিচালকবৃন্দ মতিউল ইসলাম নওশাদ ও নাজিমুদ্দিন চৌধুরী। এছাড়া ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মাসরুর আরেফিন, কোম্পানি সেক্রেটারি মো. কাফি খান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং বিপুল সংখ্যক শেয়ারহোল্ডার এতে যুক্ত ছিলেন।
স্বাগত বক্তব্যে ব্যাংকের চেয়ারম্যান হোসেন খালেদ ২০২৫ সালে ব্যাংকের ১,৩২৪ কোটি টাকার সমন্বিত কর-পরবর্তী নিট মুনাফার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী বছরের ১,০১৪ কোটি টাকা থেকে মুনাফার এই ৩১% প্রবৃদ্ধি সিটি ব্যাংকের শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি ও সুশাসনের অন্যতম স্মারক।
তিনি আরো বলেন, "বৈশ্বিক ও দেশীয় নানা অনিশ্চয়তার মধ্যেও সিটি ব্যাংক সুশাসন, শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে। আমরা ব্যালেন্স শিট শক্তিশালীকরণ, ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করা এবং দেশের ব্যবসা ও জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার অব্যাহত রেখেছি। আমাদের লক্ষ্য থাকবে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অর্থবহ অবদান রাখা।"
এজিএম-এ ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ অনুযায়ী ব্যাংকের নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক বিবরণী উপস্থাপন করা হয় এবং শেয়ারহোল্ডাররা ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রমের ওপর আলোচনা করেন।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন প্রতিষ্ঠানের সার্বিক চিত্র শেয়ারহোল্ডারদের কাছে তুলে ধরেন এবং তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
তিনি বলেন, "গ্রাহকের আস্থা, সুশৃঙ্খল প্রবৃদ্ধি এবং শক্তিশালী ব্যবসায়িক গতিশীলতার ভিত্তিতে ২০২৫ সালে সিটি ব্যাংক রেকর্ড আর্থিক সাফল্য অর্জন করেছে। প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন, উন্নত গ্রাহকসেবা এবং দায়িত্বশীল ব্যাংকিং চর্চার মাধ্যমে আমরা দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। উন্নততর সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিবেশ ও বাড়তে থাকা ব্যবসায়িক আস্থাকে কাজে লাগিয়ে সিটি ব্যাংক দেশের আর্থিক খাতের ভবিষ্যৎ নির্মাণে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।"