আবাসিক গ্রাহকদের স্বস্তি দিয়ে লাইফলাইন (০-৫০ ইউনিট) এবং প্রথম ধাপের (০-৭৫ ইউনিট) বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্যহার কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এই দুই স্তরের গ্রাহকদের জন্য আগের দামই বহাল রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিইআরসির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি), ডিপিডিসি, ডেসকো, ওজোপাডিকো এবং নেসকোর প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি শেষে গতকাল (বুধবার) বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ করেছিল কমিশন। তবে পরবর্তীতে আবাসিক লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের পুনর্নির্ধারিত মূল্যহার পুনর্বিবেচনার জন্য বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানিগুলো আবেদন করে। সেই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে কমিশন বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করে আগের হার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যুতের হার:
চলতি জুন মাসের বিল থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বর্তমান মূল্যহার নিচে দেওয়া হলো:
লাইফলাইন গ্রাহক (০-৫০ ইউনিট): প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা (ইউনিট) ৪.৬৩ টাকা।
প্রথম ধাপের গ্রাহক (০-৭৫ ইউনিট): প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা (ইউনিট) ৫.২৬ টাকা।
লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের মূল্যহার আগের মতো থাকলেও, বুধবার (৩ জুন) জারি করা খুচরা বিদ্যুৎ মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত কমিশনের অন্যান্য সব আদেশ অপরিবর্তিত থাকবে।
এর আগে বুধবার (৩ জুন) পাইকারি ও খুচরা—দুই পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়। জুন মাস থেকেই নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
নতুন দরে আবাসিক লাইফলাইন শ্রেণির গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ৫ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা আগের তুলনায় ৬৯ পয়সা বেশি। এই শ্রেণির গ্রাহকেরা মাসে সর্বোচ্চ ৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। সাধারণত একটি ফ্যান ও এক বা দুটি বাতি ব্যবহারকারী নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
এ ছাড়া মাসে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রথম ধাপের গ্রাহকদের জন্য প্রতি ইউনিট মূল্য ৬ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা আগের চেয়ে ৯২ পয়সা বেশি।