Corporate Sangbad
জাতীয়

তদন্তে চরম অবহেলার প্রমাণ, আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা

প্রকাশিত: ৪ জুন, ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ন ·

রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে একসঙ্গে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে আদ-দ্বীন হাসপাতালের দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, গত ২৭ মে ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয়টি নবজাতক শিশু মারা গেছে। এ ঘটনাটিকে খুবই সিরিয়াসলি নিয়েছি। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি, তাদের তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। আজ বিকেল ৩টায় সেই প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী তদন্ত প্রতিবেদনের মূল অংশ উপস্থাপন করে বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বরতদের চরম অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদনে প্রধান যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে:

অক্সিজেনের ঘাটতি ও বিষাক্ত বাতাস: প্রায় ৯০০ বর্গফুটের ওই কক্ষটিতে দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ ছিল। কোনো বিকল্প ভেন্টিলেশন বা আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়—যা নবজাতকদের বেঁচে থাকার জন্য অসম্ভব ছিল।

অতিরিক্ত ধারণক্ষমতা: কক্ষটিতে ১১ জন নবজাতক এবং স্বজনসহ প্রায় ৫০ জন উপস্থিত ছিলেন, যা ছিল ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি।

চিকিৎসকহীন ওয়ার্ড ও নার্সদের উদাসীনতা: সংকটাপন্ন নবজাতকদের দেখাশোনার জন্য ওয়ার্ডে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা বারবার ডাকলেও দায়িত্বরত সেবিকারা (নার্স) কোনো চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ না করে কালক্ষেপণ করেন।

জরুরি সাড়াদানের অভাব (No Emergency Response): হাসপাতালটিতে কোনো সক্রিয় 'ইমারজেন্সি মেডিকেল রেসপন্স' ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি সেবিকাদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো কোনো প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়নি।

অনুপযুক্ত ভবন: তদন্ত কমিটির মতে, পুরো ভবনটিই হাসপাতাল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয়। ছোট ছোট কক্ষ নির্মাণের কারণে ভবনটি এমনিতেই যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ।

এর আগে, গত ২৭ মে ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট-অপারেটিভ (পোস্ট ডেলিভারি) ওয়ার্ডে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। হাসপাতালের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) গ্যাসলাইনে লিকেজ বা অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে শ্বাসরোধে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই রমনা থানা পুলিশ ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
 
ঘটনার দিনই সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিবকে (বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা) প্রধান করে গঠিত এই কমিটিতে সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেয়া হয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের উপপরিচালককে (হাসপাতাল-১)। এ ছাড়া অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (আইন শাখা) এই কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেন। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে শিশুদের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান এবং প্রতিকারের বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয়া হলেও পরবর্তীতে সময় বাড়িয়ে ৪ জুন করা হয়।