Corporate Sangbad
শেয়ারবাজার

বিএসইসি চেয়ারম্যানসহ ৪ কমিশনারের একযোগে পদত্যাগ

প্রকাশিত: ৪ জুন, ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ন ·

দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদসহ চার কমিশনার একযোগে পদত্যাগ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে তারা নিজ নিজ পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগকারী চার কমিশনার হলেন—মু. মহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ এবং মো. সাইফুদ্দিন। পদত্যাগপত্রে তারা প্রত্যেকেই 'ব্যক্তিগত কারণ' উল্লেখ করেছেন বলে জানা গেছে।

এক বার্তায় খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, গত ২১ মাস ধরে বিএসইসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের পর, আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে মনোনিবেশ করার জন্য এই সরকারি পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আমরা সবচেয়ে উত্তাল সময়ে নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি এবং অবিলম্বে আইনি কাঠামো ও বাজার শৃঙ্খলার একটি দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার শুরু করেছি।

এই স্বল্প সময়ে আমরা ইতোমধ্যে ৫টি বিধি (মার্জিন, আইপিও, মিউচুয়াল ফান্ড, ডেট সিকিউরিটিজ, হুইসেলব্লোয়ার) গেজেটভুক্ত করেছি। এছাড়া আমরা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জনমতের জন্য ৩টি খসড়া বিধি/নির্দেশিকা (কর্পোরেট গভর্নেন্স, অডিট, কর্পোরেট পুনর্গঠন) প্রকাশ করেছি।

খন্দকার রাশেদ মাকসুদ আরও বলেন, আমরা এফআইডির প্রণয়নের জন্য দুটি আইনের (বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন ও ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন) খসড়া তৈরি করেছি।

বাজার শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা পরিপালন/বাস্তবায়ন ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি এবং উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছি। আমরা আইনের শাসন পুনরুদ্ধার এবং নিয়মিত অংশীজন সম্পৃক্ততা কর্মসূচির মাধ্যমে সমস্ত আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক হস্তক্ষেপের ব্যবস্থা অপসারণ করেছি এবং বাজার, মধ্যস্থতাকারী ও ইস্যুকারীদের অবাধে কাজ করার সুযোগ দিয়েছি।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের দ্বারা স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও প্রতিযোগিতা এবং প্রশাসনের তৃণমূল স্তরে সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে আমরা বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা ও শিক্ষায়ও ব্যাপক অগ্রগতি সাধন করেছি।

উপরোক্ত সকল পদক্ষেপ একটি পুনরুজ্জীবিত ও প্রাণবন্ত বিএসইসি দলের দ্বারা অর্জিত হয়েছে, যারা আরও বেশি কিছু করতে প্রস্তুত ও আগ্রহী।

এদিকে গত কয়েক মাস ধরে পুঁজিবাজারে ক্রমাগত অস্থিরতা ও ধস নামায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগের দাবিতে বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এবং সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।

একই সঙ্গে কমিশনের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কর্মবিরতিসহ নানা আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। এই তীব্র অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চাপের মুখেই পুরো কমিশন পদত্যাগ করতে বাধ্য হলো।

কার কেমন ছিল মেয়াদকাল
২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট চার বছরের জন্য বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। সেই হিসাবে মাত্র ২১ মাসের মাথায় তাকে বিদায় নিতে হলো।

অন্যান্য কমিশনারদের মধ্যে মু. মহসীন চৌধুরী ২০২৪ সালের ২ জুন, মো. আলী আকবর ২৮ আগস্ট এবং ফারজানা লালারুখ ৩ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পান। আর সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন মো. সাইফুদ্দিন। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগেই পুরো কমিশন একযোগে পদত্যাগ করল।

কমিশন পুনর্গঠনের আভাস
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা এই পদত্যাগকে একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। গত মঙ্গলবার (২ জুন) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিএসইসি পুনর্গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণার দুই দিনের মাথায় এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটায় বাজার সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দ্রুতই নতুন নেতৃত্বের অধীনে পুনর্গঠিত হতে যাচ্ছে বিএসইসি, যা বাজারে স্থবিরতা কাটাতে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ভূমিকা রাখবে।