Corporate Sangbad
সারাদেশ

গাছে বাঁধা যুবকের দ্বিখণ্ডিত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত

প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ন · ময়মনসিংহ ব্যুরো

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে অজ্ঞাত এক যুবকের গাছে দুই হাত বাঁধা শরীর এবং মাথা পায়ের নিচে এমন দ্বিখন্ডিত অবস্থায় অজ্ঞাত হিসেবে মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।  পরে মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে পরিচয় শনাক্ত করেন পিবিআই।

নিহত যুবক মোঃ কাওছার আলম (৪৪) দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার দেবীপুর গ্রামের মোঃ জামেদ আলী ও মোছাঃ লাইলী বেগমের ছেলে। কাওসার গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় বসবাস করতেন এবং সেখান থেকেই নিখোঁজ হয়েছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা এলাকার মশাখালি ইউনিয়নের দরিচাইরবাড়িয়া গ্রামের একটি গাছের সঙ্গে পেছনে দুই হাত বাঁধা অবস্থায় ঝুলন্ত শরীর এবং পায়ের নিচ থেকে মাথা সহ এ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে পিবিআই ও থানা পুলিশের বিশেষ তৎপরতায় উদ্ধার হওয়া লাশের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় এক যুবক মশাখালী ইউনিয়নের দরি চারবাড়িয়া গ্রামের শাহাকান্দা কাইল্লার ভিটা নামক স্থানে জঙ্গলসংলগ্ন এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় গাছের সাথে বাঁধা অবস্থায় একটি লাশ দেখতে পান। পরে কাছে গিয়ে তিনি দেখেন, লাশটির শরীর থেকে মাথা আলাদা করা রয়েছে এবং খণ্ডিত মাথাটি দেহ থেকে আলাদা জঙ্গলের ভেতর পড়ে আছে। এমন ভয়াবহ দৃশ্য দেখে তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে পাগলা থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ ও খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে।

প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, ওই যুবককে অন্য কোথাও নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যার পর লাশটি গুমের উদ্দেশ্যে দুর্গম ওই জঙ্গলে গাছের সাথে বেঁধে ফেলে রাখা হয়েছিল। এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। কারা এই নির্মম ঘটনার সাথে জড়িত, কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে— এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। এই ঘটনায় পাগলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে জঙ্গলে গাছের সাথে বাঁধা অবস্থায় যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং খুনিদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে পাগলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, পিবিআই পুলিশের মাধ্যমে নিহত যুবকের পরিচয় জানতে পেরেছি। তবে কি ভাবে কি ঘটেছে, এখনো জানা যায়নি। পুলিশের একাধিক টিম ঘটনার রহস্য উধঘাটনে কাজ করছে।

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর সাথে জড়িত খুনিদের শনাক্ত করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পিবিআই ও থানা পুলিশের একাধিক ইউনিট মাঠে কাজ করছে। নিহতের পরিচয় যেহেতু মিলেছে, তাই দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।