বাংলাদেশে কার্যরত তফসিলি ব্যাংক সমূহের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন ও সার্বিক সচেতনতা বৃদ্ধিও লক্ষ্যে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এর উদ্যোগে ৮-৯ মে দুই দিনব্যাপী ব্যাংকসমূহের প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা (CAMLCO) সম্মেলন, ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়।
কক্সবাজারের স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত সম্মেলনে বিএফআইইউ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দের পাশাপাশি অংশ নেন তফসিলি ব্যাংকসমূহের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন বিষয়ক কর্মকর্তাবৃন্দ।
সম্মেলনের প্রধান অতিথি বিএফআইইউ-এর প্রধান কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন মোঃ মামুন তার বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে সততা, সুশাসন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং পারস্পরিক সমন্বয়ের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি জানান, ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার প্রসারের ফলে যেমন আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বেড়েছে, তেমনি ই-কমার্স প্রতারণা, ট্রেড-বেইজড মানিলন্ডারিং ও সাইবার ঝুঁকির মত মারাত্মক আর্র্থিক অপরাধও বৃদ্ধি পেয়েছে| এ সকল অপরাধ দমনে প্রয়োজন কার্যকর কর্পোরেট গভর্ন্যান্স, প্রযুক্তি নির্ভর নজরদারি, ঝুঁকিভিত্তিক কমপ্লায়েন্স এবং সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্টিং এর প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখা। তিনি ব্যাংক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ এবং তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ, নিরাপদ ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে ব্যাংকসমূহকে নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়া, এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানিলন্ডারিং কর্তৃক আগামী ২০২৭-২৮ মেয়াদে অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশের মিউচ্যুয়াল ইভ্যালুয়েশনে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি নির্দেশনা দেন।
তিনি আরও বলেন, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে আমাদের একটি অভিন্ন লক্ষ্য রয়েছে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের সেই লক্ষ্য অর্জন করতে হবে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএফআইইউ-এর উপপ্রধান কর্মকর্তা মোঃ মফিজুর রহমান খান চৌধুরী। সম্মেলনের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন।
এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য বিষয়ঃ ‘‘Strengthening AML/CFT compliance through Integrity, Governance, Digital Transformation and Collaboration” এর উপরে Key note presentation করা হয়। এছাড়া পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের চ্যালেঞ্জ, রিস্ক বেইজড সুপারভিশন, ঋণ জালিয়াতি ও ক্যাপিটাল ফ্লাইট প্রতিরোধ, ইথিক্যাল প্র্যাকটিস ও মিউচ্যুয়াল ইভ্যালুয়েশনের উপর পৃথক উপস্থাপনা প্রদান করা হয়| প্যানেল আলোচনায় বিএফআইইউ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও তফসিলি ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকবৃন্দসহ দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রযুক্তিগত ইমার্জিং চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলায় এ খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা, ক্রমান্বয়ে ডিজিটাল রূপান্তর এবং পারস্পরিক সমন্বয়ের উপর বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার আহবান করা হয়। ঋণ/বিনিয়োগ খাতে বেনামি প্রতিষ্ঠান, ভুয়া জামানত, ফান্ড ডাইভারশন ও ইচ্ছাকৃত খেলাপির মতো কৌশল ব্যবহারের ঝুঁকি মোকাবিলায় গ্রাহকের তথ্যাদি যথাযথ যাচাই, লেনদেন পর্যেবক্ষণ এবং সময়মতো এসটিআর/এসএআর রিপোর্টিং নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রসারের সঙ্গে নতুন ধরনের সাইবার ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়| এই লক্ষ্য অর্জনে সকল স্টেকহোল্ডারের সমন্বিত প্রচেষ্টা ও ধারাবাহিক কমপ্লায়েন্স সংস্কৃতি গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।